দুবাইয়ে বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদের দণ্ড ঠেকাতে শেষ চেষ্টা

জানুয়ারী ২৯, ২০১২ | লেখক: | বিভাগ: আইন, নারী বিষয়ক, সমাজ ও সংবাদ | ১৩২ বার পড়া হয়েছে

দুবাইয়ে শিরশ্ছেদের দণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশী যুবককে এখনও ক্ষমা করেনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া তিন যুবকের বাংলাদেশী পরিবার। তবে এখনও পর্যন্ত শেষ চেষ্টা চলছে। সরকারের তরফ থেকেও এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের মৃত মো. শফি’র দুই ছেলে আইয়ুব (২৮) ও তৈয়ব (২৫)-কে ২০১১ সালের ২রা মে আমিরাতের রাস আল-খাইমায় কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। এ হত্যার দায়ে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ দায়রাপাড়ার হারুনুর রশিদকে আটক করে দুবাই পুলিশ। অপরদিকে ২০০৯ সালের ১১ই নভেম্বর ঘুমন্ত অবস্থায় দুবাইতে ফটিকছড়ির রোসাংগিরি গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন মো. ইউনুছ (২৩)-কে তিন টুকরা করা হয়। এ হত্যার দায়ে নানুপুর ইউনিয়নের মাইজভাণ্ডার গ্রামের হাজী আমির হামজা’র ছেলে শাহাব উদ্দিনকে আটক করে দুবাই পুলিশ। বিচারে দুই বাংলাদেশী যুবককেই শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যু দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। আগামী ৩০শে জানুয়ারি দুবাইয়ের আদালত এ দণ্ড কার্যকরের দিন ধার্য করবেন।

বিষয়টি জেনে আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনস্যুলার বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুনিদের ক্ষমা করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেন। এ অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া হয়। কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক গত বুধবার এই সমঝোতা বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। তবে নিহত তিন বাংলাদেশীর পরিবার দণ্ডিত দুই যুবককে ক্ষমা করতে রাজি হয়নি। নিহত তিন যুবকের পরিবার চাইছে, হত্যাকারীদের বিচার শিরশ্ছেদের মাধ্যমেই কার্যকর হোক। এদিকে, শিরশ্ছেদ দণ্ড থেকে দুই বাংলাদেশীকে রক্ষা করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দুই যুবকের পরিবার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকার। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে সরকারের হয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বুধবার দুপুরে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক করেন।

বর্তমানে সমঝোতার বিষয়ে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, একই ইউনিয়নের মাতব্বর মো. আনোয়ার হোসেনসহ চার জন। তারা আজ (২৭শে জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামের ডিসি’র কাছ থেকে সময় নিয়েছেন বিষয়টি মিটমাটের। একই দিন বিকালে সমঝোতার অগ্রগতি সম্পর্কে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফয়েজ আহমেদকে জানাবেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ডিসি ফয়েজ আহমেদ  বলেন, এক দফা চেষ্টা করে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এখন দায়িত্ব দিয়েছি সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ চার ব্যক্তিকে। ২৭শে জানুয়ারি পর্যন্ত তারা সময় নিয়েছেন। দেখা যাক কি হয়?  বৈঠকে নিহতের পরিবারদের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত হননি। ফলে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি জেলা প্রশাসক। এর আগে গত ২২শে জানুয়ারি ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। তবে নিহত আইয়ুব ও তৈয়বের মা রোকেয়া বেগম, আইয়ুবের স্ত্রী নুসরাত জাহান মুক্তা, নিহত জামাল উদ্দিনের ভাই সোহেলসহ দুই পরিবারের কোন সদস্যই খুনিদের ক্ষমা করতে রাজি হননি। তারা মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পক্ষে কাগজে স্বাক্ষর করেন। ফলে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমদ জানান, বুধবারের বৈঠকে আইয়ুব ও তৈয়বের মা বৈঠকে উপস্থিত হননি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হয়েছি। তারা কোন সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নন বলে জানিয়েছেন নিহতের মামা। তবে তাদের আরও বোঝানোর জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাহাবুদ্দিনের মা মমতাজ বেগম বলেন, নিহতের পরিবারের হাতে-পায়ে ধরে অনেক ক্ষমা চেয়েছি। তবুও তাদের মন গলেনি। অন্যদিকে, আইয়ুব ও তৈয়বের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তোমরা পারলে আমার ছেলেদের আমার কোলে ফিরিয়ে দাও। জামালের ভাই সোহেল বলেন, আমরা স্বজন হারিয়েছি। দুবাই সরকার সে দেশের আইনে তাদের দণ্ড দিয়েছে। আমরা চাই ওই দেশের আইনেই খুনিদের শাস্তি হোক। ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং হত্যার বদলে হত্যা নয়- এ দু’টি বিষয়ে দুই পরিবারকে বোঝাতে চেয়েছি। তারা মানছেন না। কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজার রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় এই শ্রমবাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে একেক দেশের একেক আইন এবং একেক দেশের সঙ্গে একেক রকম চুক্তি। ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি তা আমাদের সঙ্গে নেই। তবু আমরা উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে কোন পরিবার তা মানেনি। সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে জেলা প্রশাসক আহূত বৈঠকেও বিষয়টির সুরাহা হলো না। সূত্রঃ ষ্টেট নিউজ বিডি

মন্তব্য

মন্তব্য

Avatar of এম জে জিন্নাত

লেখক:

সর্বাপেক্ষা সেই জ্ঞানী, যিনি নিজে শিখেন এবং অপরকে শেখাই।

এই লেখক BD-Article.Com-এ 703টি আর্টিকেল প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য করুন